খুঁটি পুজোয় বাজল পল্লীশ্রী সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির ঢাক

 

ঈশানী মল্লিক ,কলকাতা: হাতে গোনা মাত্র আর কয়েক সপ্তাহ। তারপরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব। যার জন্যে গোটা এক বছর ধরে জমে অনেক পরিকল্পনা সাথে উন্মাদনাও। খুঁটি পুজোর মধ্যে দিয়ে এবার দুর্গা পুজোর প্রস্তুতি শুরু করলো পল্লীশ্রী সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সদস্যরা। এদিন রবীবাসরীয়র সকাল থেকে নিয়ম নিষ্ঠা মেনে সকল উদ্যোক্তারা সামিল হন পুজোর প্রস্তুতিতে। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনির মধুর সুরে জমে উঠল মহিলা পরিচালিত পল্লিশ্রী সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পূজামণ্ডপ এর প্রাঙ্গণ। পূজার্চনার মঙ্গলধ্বনি, ভক্তজনের অর্ঘ্য নিবেদন আর প্রসাদ বিতরণের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হল এবছরের দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি।

 

শাস্ত্র মতে, পূজামণ্ডপ নির্মাণের পূর্বে এই খুঁটি পুজো শুভ সূচনার প্রতীক। সেই মত এই আয়োজন। সেখানে এলাকার মানুষেরাও সামিল হন। কলকাতা পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর স্বপন দাস সহ এই দিনের এই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএবি মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রদীপ কুমার দে সহ বহু বিশিষ্ট ব্যাক্তিওত্বরা। ক্লাবের সম্পাদক সহ অন্যান্য সদস্যরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

 

বিগত বছর ধরে এই পুজো মহিলাদের দ্বারা মহা সমারোহে পরিচালিত হচ্ছে। এবছর থেকে থিমের দুনিয়ায় পা রাখলো এই পুজো কমিটি। মন্ডপ জুড়ে থাকছে অনেক চমক। ক্লাবের সভাপতি স্মিতা চক্রবর্তী  বলেন, “খুঁটি পুজো মানেই দুর্গোৎসবের কাউন্টডাউন শুরু। এখন থেকে দিন গোনা শুরু। আমরা পাড়ার মহিলা সকলে আনন্দের সঙ্গে বিগত বছর ধরে মাতৃ আরাধনা করছি। এই বছর থেকে থিম পুজো শুরু করেছি। আমাদের বছরের থিম বাংলা ভাষা। এখন বাংলা ভাষা মানুষের মধ্যে থেকে হারিয়ে যেতে চলেছে। এই ভাষা যাতে নিজের ঐতিহ্য নিয়ে সম্মানের সঙ্গে আগামীদিনে মানুষের মধ্যে থেকে যায় আমরা এই বার্তাই থিম পুজোর মাধ্যমে দিতে চাইছি।

 


গান, আবৃত্তি আর নৃত্যের ছন্দে মেতে উঠল এই দিনের এই অনুষ্ঠান প্রাঙ্গন। ছোট-বড় সকলেই যেন এদিন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।


এলাকার মানুষেরা বলেন, খুঁটি পুজো শুধু মাটির খুঁটিতে ফুল-চন্দন দেওয়ার আচার নয়, বরং এটি একাত্মতার বাঁধন, মিলনের মহোৎসবের প্রারম্ভ। সামনে পুজোর দিনগুলোকে কেন্দ্র করে এখন শুরু হবে সাজসজ্জা, মণ্ডপ নির্মাণ আর প্রতিমা গড়ার ব্যস্ততা তো রয়েছেই।


Comments